পাবনা থেকে মাওলানা শামীম আহমেদ :
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলাম সৎ, ন্যায়বান ও যোগ্য নেতৃত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। একজন নেতার চরিত্র ও যোগ্যতার ওপরই সমাজের শান্তি, ন্যায়বিচার ও উন্নতি নির্ভর করে। তাই মুসলিম জীবনে সৎ ও যোগ্য নেতা নির্বাচন করা শুধু নাগরিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইমানি দায়িত্বও বটে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দেন আমানত তার যোগ্য ব্যক্তির কাছে অর্পণ করতে এবং যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে তখন ন্যায়বিচার করবে।”
(সূরা নিসা : ৫৮)
এই আয়াতে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, দায়িত্ব ও নেতৃত্ব তাদের হাতেই তুলে দিতে হবে যারা এর উপযুক্ত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
“যখন কোনো কাজ অযোগ্য ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করা হয়, তখন কেয়ামতের অপেক্ষা কর।”
(সহিহ বুখারি)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, অযোগ্য নেতৃত্ব সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ।
সৎ ও যোগ্য নেতা হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহভীরু, ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত। তিনি ক্ষমতাকে আমানত হিসেবে দেখেন, ভোগের বস্তু হিসেবে নয়। এমন নেতা সমাজে ইনসাফ কায়েম করেন, দুর্নীতি দমন করেন এবং দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষা করেন।
অন্যদিকে অসৎ ও অযোগ্য নেতা সমাজে জুলুম, বৈষম্য ও অশান্তি ডেকে আনে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যখনই নেতৃত্বে অযোগ্য ও স্বার্থপর মানুষ এসেছে, তখনই সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও বিপর্যয় নেমে এসেছে।
বর্তমান সময়েও মুসলমানদের উচিত আবেগ, লোভ বা দলীয় অন্ধত্বের ভিত্তিতে নয়; বরং তাকওয়া, সততা, যোগ্যতা ও জনকল্যাণের মানদণ্ডে নেতা নির্বাচন করা। ভোট বা মতামত প্রদানও ইসলামের দৃষ্টিতে একটি সাক্ষ্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন—
“সাক্ষ্য গোপন করো না।”
(সূরা বাকারা : ২৮৩)
অতএব ভুল ব্যক্তিকে সমর্থন করা এক ধরনের অন্যায় সাক্ষ্য দেওয়ার শামিল।
পরিশেষে বলা যায়, সৎ ও যোগ্য নেতা নির্বাচন করা মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতসম দায়িত্ব। এর মাধ্যমেই সমাজে ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সত্যকে চিনে নেওয়ার তাওফিক দিন এবং সৎ নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার যোগ্যতা দান করুন—আমিন।