
নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুর-৪ আসন এখন জেলার সবচেয়ে আলোচিত ও স্পর্শকাতর নির্বাচনী আসনে পরিণত হয়েছে। সরিষাবাড়ী উপজেলার এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কার্যত দুই মেরুতে বিভক্ত—একদিকে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম, অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল আওয়াল। মাঠের বাস্তবতায় বিএনপি এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভোটের সমীকরণ পাল্টাতে মরিয়া জামায়াত।
এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটারদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের প্রতি সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি। জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উপস্থিতি, দলীয় সাংগঠনিক কাঠামো এবং গ্রাম পর্যায়ে সক্রিয় নেতাকর্মীদের কারণে তিনি মাঠে স্পষ্টভাবে এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টজন।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল আওয়াল সংগঠিত কর্মীবাহিনী ও ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংক ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। সরিষাবাড়ীর একাধিক এলাকায় উঠান বৈঠক, সীমিত পরিসরের সভা ও ব্যক্তি যোগাযোগে জোর দিচ্ছে জামায়াত।
তবে ভোটের ফলাফল নয়, ভোট দিতে পারা নিয়েই সবচেয়ে বড় শঙ্কার কথা বলছেন সাধারণ ভোটাররা। অনেক ভোটারের আশঙ্কা—ভোটকেন্দ্র দখল, ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের কারণে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
উপজেলার এক প্রবীণ ভোটার বলেন,
“কার পক্ষে ভোট দেব, সেটা পরের কথা। আগে দেখি ভোট দিতে পারি কি না।” এক তরুণ ভোটার জানান, “আগের অভিজ্ঞতা ভালো না। এবার যদি সত্যিই ভোট দিতে পারি, তাহলেই অনেক কিছু বদলাবে।”
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেন, “এই এলাকার মানুষ পরিবর্তন চায়। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে জনগণ তাদের অধিকার প্রয়োগ করবে। আমি শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে থাকব। আল্লাহ চাইলে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত। “
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল আওয়াল বলেন, “আমি আইনের মানুষ। ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমার লক্ষ্য। ভোট সুষ্ঠু হলে জনগণই সিদ্ধান্ত দেবে।”
অপরদিকে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাস দেওয়া হলেও ভোটারদের মধ্যে সেই আস্থার প্রতিফলন এখনো স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক মেরুকরণ, অতীত অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা মিলিয়ে জামালপুর-৪ আসনে ভোটের দিন কী ঘটতে যাচ্ছে—সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো জেলা।