
নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই অধ্যায়ে জনগণ তাদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে সম্পন্ন হয়। সে কারণেই নির্বাচনে আচরণবিধি মেনে চলা শুধু আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়—এটি গণতন্ত্র রক্ষার নৈতিক দায়িত্ব।
আচরণবিধি মূলত নির্বাচনী মাঠে সমতা নিশ্চিত করার একটি কাঠামো। ক্ষমতাসীন দল বা প্রভাবশালী প্রার্থী যাতে রাষ্ট্রীয় সুবিধা কিংবা শক্তির অপব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে অসম না করে, সেজন্যই এই বিধি। পোস্টার, ব্যানার, মাইকিং, জনসভা, প্রচারণার সময় ও ব্যয়ের সীমা—সবকিছু নির্ধারিত থাকে যাতে প্রতিটি প্রার্থী সমান সুযোগ পায়।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে আচরণবিধি ভঙ্গ প্রায়ই ‘কৌশল’ হিসেবে দেখা হয়। কোথাও সরকারি গাড়ি ব্যবহার, কোথাও ভয়ভীতি প্রদর্শন, কোথাও কালো টাকা বা পেশিশক্তির দাপট—এসব আচরণ কেবল একটি নির্বাচনের ফলাফলকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, দীর্ঘমেয়াদে জনগণের আস্থা ভেঙে দেয়। মানুষ যখন বিশ্বাস হারায়, তখন ভোটকেন্দ্র ফাঁকা হয়, গণতন্ত্র দুর্বল হয়।
আচরণবিধি মানার দায় শুধু প্রার্থীর নয়; রাজনৈতিক দল, সমর্থক, প্রশাসন এবং ভোটার—সবারই দায়িত্ব আছে। দলগুলোর উচিত কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া ও ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। প্রশাসনের দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করা, কারো প্রতি পক্ষপাত না দেখানো। আর ভোটারের দায়িত্ব হলো ভয় বা প্রলোভনে না পড়ে সচেতন থাকা এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করা।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শক্ত হাতে আচরণবিধি প্রয়োগ, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জনগণের আকাঙ্খার প্রতিফলন হতে পারে।
আল আমিন মিলু
রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক লেখক এবং আহ্বায়ক গনঅধিকার পরিষদ সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর