
নিজস্ব প্রতিবেদক
হঠাৎ করেই যেন উধাও দেশের রান্নার গ্যাস। শহর থেকে গ্রাম—একই চিত্র। এলপিজি সিলিন্ডার নেই, থাকলেও দাম আকাশছোঁয়া। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই সংকট নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নেই কোনো স্পষ্ট বক্তব্য, নেই কোনো দায় স্বীকার, নেই কোনো কার্যকর ব্যাখ্যা। নীরবতা যেন এখন রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হয়েছে।
যে এলপিজি গ্যাসকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে জনগণকে ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করা হলো, সেই গ্যাসই আজ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বিদ্যুৎ সংকট, গ্যাস লাইনের অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে মানুষ যখন বাধ্য হয়ে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হলো, তখনই বাজারকে ছেড়ে দেওয়া হলো একচেটিয়া ব্যবসায়ীদের হাতে। ফলাফল—কৃত্রিম সংকট, সিন্ডিকেট, আর ভোক্তার গলায় ছুরি।
প্রশ্ন হলো, এই সংকট কি সত্যিই আকস্মিক? নাকি এটি পরিকল্পিত অব্যবস্থাপনার ফল? আমদানিনির্ভর একটি পণ্যের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি, মজুদ তদারকি, দাম নিয়ন্ত্রণ—এসব কি সরকারের দায়িত্ব নয়? তাহলে কেন কোনো সতর্কতা নেই, কেন কোনো ব্যাখ্যা নেই? সংসদে বক্তৃতা হয় উন্নয়নের, কিন্তু রান্নাঘরের আগুন নিভে গেলে সেই উন্নয়ন সাধারণ মানুষের কাছে অর্থহীন হয়ে পড়ে।
আরও ভয়ংকর হলো—এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। যাদের জন্য একবেলা রান্না মানেই হিসাব-নিকাশ, তাদের কাছে বাড়তি কয়েকশ টাকা মানে সন্তানের পড়ার খরচ কমানো, ওষুধ না কেনা, কিংবা ধার করা। অথচ এই মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও নীতিনির্ধারকদের কণ্ঠে শোনা যায় না অনুশোচনা, দেখা যায় না জরুরি পদক্ষেপ।
সরকার যদি এখনই জবাবদিহির জায়গায় না আসে, বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর না হয়, সিন্ডিকেট ভাঙতে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেয়—তাহলে এই সংকট শুধু গ্যাসে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি আস্থার সংকটে রূপ নেবে। রাষ্ট্রের ওপর মানুষের যে শেষ ভরসা, সেটুকুও ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাবে।
রান্নার চুলা নিভে গেলে শুধু হাঁড়ি ঠান্ডা হয় না, ঠান্ডা হয় মানুষের বিশ্বাসও। সেই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব বক্তৃতায় নয়, কার্যকর সিদ্ধান্তে। এখনই সময়—নয়তো ইতিহাস এই নীরবতাকে ক্ষমা করবে না।
সরিষাবাড়ি জামালপুর
০১৭১৯০৮৫৭১৬