
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের রাজনীতি আজ গভীর এক আস্থাহীনতার সংকটে ভুগছে। সাধারণ মানুষের চোখে রাজনীতি মানেই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, স্বার্থের সংঘর্ষ আর নৈতিকতার অনুপস্থিতি। এই বাস্তবতায় যখন মানুষ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তখনই কিছু ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক উদ্যোগ নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। গণঅধিকার পরিষদ তেমনই একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যা নীতি ও নৈতিকতার প্রশ্নকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনার চেষ্টা করছে।
গণঅধিকার পরিষদের রাজনীতি মূলত জনগণের মৌলিক অধিকারকে ঘিরে আবর্তিত। ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা—এই বিষয়গুলো দলটির ঘোষিত রাজনীতির মূল ভিত্তি। প্রচলিত ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে এসে তারা জনগণকেই ক্ষমতার উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই দর্শন কাগজে-কলমে নতুন না হলেও বাস্তব প্রয়োগে বাংলাদেশে এখনও বিরল।
আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সবচেয়ে অনুপস্থিত শব্দটি সম্ভবত ‘নৈতিকতা’। ক্ষমতার রাজনীতিতে নৈতিক অবস্থান অনেক সময় দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়। অথচ গণঅধিকার পরিষদ বারবার দেখাতে চেয়েছে, নৈতিকতা রাজনীতির শত্রু নয়—বরং দীর্ঘমেয়াদি শক্তির উৎস। অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করা, জনগণের কষ্টকে রাজনৈতিক হাতিয়ার না বানানো এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কথা বলার যে চেষ্টা দলটি করে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।
তবে এই নৈতিক রাজনীতির পথ মোটেও সহজ নয়। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর চাপ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দমননীতি, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সামনে রয়েছে কঠিন বাস্তবতা। জনপ্রিয়তার রাজনীতিতে টিকে থাকতে গেলে অনেক সময় আপসের দরকার পড়ে, কিন্তু সেখানেই নীতি ও নৈতিকতার বড় পরীক্ষা।
তবুও প্রশ্ন থেকে যায়—এই দেশে রাজনীতি কি শুধুই ক্ষমতার জন্য হবে, নাকি মানুষের জন্যও হবে? গণঅধিকার পরিষদ সেই প্রশ্নটিই বারবার সামনে নিয়ে আসছে। হয়তো তারা এখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার শক্তি অর্জন করতে পারেনি, কিন্তু নৈতিক রাজনীতির যে বীজ তারা বপন করছে, তা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আমার স্বপ্ন একটি এমন বাংলাদেশ, যেখানে রাজনীতি হবে মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার নিশ্চয়তা। যেখানে একজন কৃষক, শ্রমিক কিংবা বেকার যুবক রাষ্ট্রের কাছে নিজেকে পরিত্যক্ত মনে করবে না। গণঅধিকার পরিষদ যদি তার নীতি ও নৈতিকতায় অবিচল থাকতে পারে, তবে এই স্বপ্ন হয়তো একদিন বাস্তবতার রূপ নিতে পারে।
রাজনীতিতে পরিবর্তন রাতারাতি আসে না। তবে পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সৎ উদ্দেশ্য, নৈতিক দৃঢ়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রাম। গণঅধিকার পরিষদ সেই কঠিন পথেই হাঁটার অঙ্গীকার করছে—এটাই তাদের রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরিচয়।
আল আমিন মিলু
রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক লেখক এবং আহ্বায়ক গনঅধিকার পরিষদ সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর