কামরুল হাসান:
সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। এতে যেমন শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিবেক লাগে, তেমন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য সাহসও লাগে।
সংবাদপত্র সমাজের দর্পন। আর সংবাদকর্মী বা সাংবাদিক হলো জাতির বিবেক। সংবাদপত্র রাষ্ট্রের অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ পেশায় আসতে হলে অবশ্যই কিছু নিয়ম-নীতি মানতে হবে বৈ কি! কেউ মানা করবে না। আগে এর মানে, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বুঝুন। ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবারের দৈনিক দেশরূপান্তর পত্রিকার ৪-এর পাতায় বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট মোস্তফা কামালের “কঠিনে গণমাধ্যমের জন্ম কঠিনে বিকাশ” লেখাটি পড়ে দেখুন। যদি সত্যিই সৎ সাহস থাকে, তাহলে সাংবাদিকতা পেশায় আসুন। ক্ষমতার দরজায় মাথা নত করে নয়। দলীয় পতাকা কাঁধে নিয়ে, সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অযথা ঘুরে অন্যদের বিভ্রান্ত করবেন না। সাংবাদিক পরিচয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের গোলামী করা শুধু ব্যক্তিগত দুর্ববলতাই নয়, বরং- এটি মহান এ পেশার সরাসরি অবমাননা করা।
সাংবাদিকতার মানে কোনো দলের মুখপাত্র হওয়ার বিষয় নয়। সাংবাদিকতা মানে প্রশ্ন করা, সত্য খোঁজা, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। কিন্ত দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা এই- আজকাল অনেকেই সাংবাদিকতাকে পুঁজি করে বা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বা সংবাদপত্রের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছেন। কেউ কেউ আবার চাঁদাবাজি করছেন, হুমকিও দিয়েছেন, শুধু এতেই ক্ষান্ত নন- নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করছেন। যা সংবাদের মূলধারার সাংবাদিকতাকেও বাঁধাগ্রস্ত করছেন। ক্ষতি করছেন পুরো সমাজকেও। এতে শুধু কোনো ব্যক্তিই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরো সমাজ ও জাতি তথা দেশ। যারা ওসব কাজে লিপ্ত, তারা দেশ ও জাতির শত্রু। তাদের এখনই প্রতিহত করতে হবে।
যে কলম দিয়ে সত্য লেখবার কথা, সে কলম আজ অন্যের হাতে বিক্রি হয়ে গেছে। দলীয় পরিচয়কে ঢাল বানিয়ে কেউ কেউ নিজেদের অপরাধ আড়াল করছেন। কেউ কেউ আবার ক্ষমতাবানদের খুশি করতেই হরহামেশা সত্যকে গলা টিপে হত্যা করছেন। ফলে জাতির আশা-আকাঙ্খা ও প্রত্যাশা পূরণ হ”েছনা। প্রিয় পাঠক, জাতির কাছে প্রশ্ন- এটাই কি সাংবাদিকতা? নাকি সাংবাদিকতার নামে রাজনৈতিক দালালী করা! এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অতীব জরুরি।
(লেখক: কামরুল হাসান #০১৯১৪-৭৩৫৮৪২# সংবাদ ও মানবাধিকারকর্মী, সংগঠক, সাবেক শিক্ষক ও এনজিও কর্মকর্তা এবং ফিচার ও কলাম লেখক)।