খায়রুল ইসলাম সুইট ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি রাজশাহী :
রাজশাহী মহানগরীতে হঠাৎ করেই রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে নগরীর কোনো দোকানেই মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সিলিন্ডার গ্যাস। কোম্পানিগুলো সরবরাহ বন্ধ রেখেছে—এমন অজুহাতে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা গ্যাস বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
চুলা জ্বলছে না ঘরে ঘরে
নগরীর সাহেববাজার, উপশহর, লক্ষ্মীপুর ও বিনোদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সিলিন্ডার হাতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটছেন মানুষ। কিন্তু সব দোকানেই ঝুলছে 'গ্যাস নেই' লেখা বোর্ড। বাসায় রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেক পরিবারকে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দোকানে গেলেই বলছে কোম্পানি গ্যাস দিচ্ছে না। কিন্তু কেন দিচ্ছে না, বা কবে আসবে তার কোনো সদুত্তর নেই। বাজারে প্রশাসনের কোনো তদারকিও চোখে পড়ছে না।"
বিপাকে খাবারের দোকান ও হোটেল ব্যবসায়ীরা
গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে নগরীর খাবারের দোকানগুলো। জ্বালানি না থাকায় অনেক ছোট-বড় হোটেল ও খাবারের দোকান বাধ্য হয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে করে যেমন ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তেমনি বাইরের খাবারের ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষরা পড়েছেন মহাবিপদে।
একজন হোটেল মালিক জানান, "গ্যাস ছাড়া আমাদের দোকান চালানো অসম্ভব। এলপিজি সিলিন্ডার না পাওয়ায় গত দুই দিন ধরে চুলা জ্বলছে না। কর্মচারীদের বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে, অথচ দোকান বন্ধ।"
কোম্পানি ও ডিলারদের লুকোচুরি
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, কোম্পানি থেকে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দাম বাড়ানোর জন্য একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে কোম্পানিগুলো কেন বাজার অস্থিতিশীল করছে, তা নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের নীরবতায় ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে।
দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে রাজশাহীবাসী সরকারের জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভোক্তাদের দাবি:
অবিলম্বে সরবরাহ স্বাভাবিক করা: কোম্পানিগুলো কেন গ্যাস দিচ্ছে না তার দ্রুত সমাধান বের করা।
বাজার তদারকি: কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ ফায়দা লুটছে কিনা তা দেখতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান পরিচালনা করা।
বিকল্প ব্যবস্থা: সংকট দীর্ঘায়িত হলে সরকারি উদ্যোগে ওএমএস (OMS) এর মতো গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করা।
রাজশাহীর সাধারণ মানুষ আশা করছেন, জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকার দ্রুত এই গ্যাস সংকটের অবসান ঘটাবে।