নিজস্ব প্রতিবেদক
হয়ে যাচ্ছেই—আবার হচ্ছে না—এই দ্বন্দ্বের মাঝেই এগোচ্ছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, অনিশ্চয়তার কুয়াশা ততই ঘনীভূত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে একটাই প্রশ্ন—নির্বাচন কি আদৌ হবে? হলে কেমন হবে? আর যদি না হয়, তবে দেশ যাবে কোন পথে?
বাস্তবতা হলো, নির্বাচন নিয়ে সংশয় থাকলেও প্রস্তুতি থেমে নেই। রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে আছে—আলোচনা, সমালোচনা, পাল্টা বক্তব্য, কৌশলগত অবস্থান—সব মিলিয়ে রাজনীতির চিরচেনা উত্তাপ স্পষ্ট। ক্ষমতাসীনদের প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও উন্নয়ন বয়ান যেমন দৃশ্যমান, তেমনি বিরোধীদের দাবি—নির্বাচনের পরিবেশ, নিরপেক্ষতা ও অংশগ্রহণ—এখনো প্রশ্নের মুখে। এই দুই মেরুর টানাপোড়েনেই জনজীবনে অনিশ্চয়তা।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আস্থার সংকট। নির্বাচন কেবল একটি দিন বা ব্যালট বাক্স নয়; এটি একটি প্রক্রিয়া—যেখানে সমান সুযোগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্য ফলাফল অপরিহার্য। যখন এসব নিয়ে সন্দেহ থাকে, তখন নির্বাচন ‘হওয়া’ আর ‘গ্রহণযোগ্য হওয়া’র মধ্যে ফারাক তৈরি হয়। জনমনে প্রশ্ন জন্মায়—ভোট দিলে কি ভোটের মর্যাদা থাকবে?
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও কূটনৈতিক বার্তাও এই প্রেক্ষাপটে ভূমিকা রাখছে। বৈশ্বিক পরিসরে গ্রহণযোগ্যতা, অর্থনৈতিক স্থিতি ও বিনিয়োগের আস্থা অনেকাংশেই একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়; এর বহুমাত্রিক প্রভাব রয়েছে।
তবু এক সত্য অস্বীকার করা যায় না—দেশ এগোয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই। প্রস্তুতি চলছে, আলোচনায় তুঙ্গে রাজনীতি, সামাজিক মাধ্যমে তর্ক-বিতর্ক—সবই ইঙ্গিত দেয়, নির্বাচন নিয়ে দোলাচল থাকলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রশ্নটা তাই ‘হবে কি না’ নয়, বরং কেমন হবে—অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য কিনা।
শেষ পর্যন্ত ইতিহাস মনে রাখে সেই নির্বাচনকেই, যেখানে জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত হয়। দোলাচলের রাজনীতি পেরিয়ে যদি সেই আস্থার জায়গায় পৌঁছানো যায়, তবে নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক দায় নয়—জাতির জন্য হবে একটি অতি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত।
আল আমিন মিলু
রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক লেখক এবং আহ্বায়ক গনঅধিকার পরিষদ সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর