
খায়রুল ইসলাম সুইট ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি রাজশাহী
রাজশাহীর সাহেব বাজার ও নিউমার্কেট কেন্দ্রিক আইটি বাজার বর্তমানে অস্থিরতার চরম শিখরে পৌঁছেছে। দেশের বড় বড় আমদানিকারক ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান যেমন— স্টারটেক, রায়ান্স, গ্লোবাল ব্র্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড, স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড এবং এক্সেল টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড-এর একচেটিয়া আধিপত্যে রাজশাহীর স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন। আমদানিকারকদের নিজস্ব শোরুম নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের কৃত্রিম সংকটের কারণে বাজারের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কর্পোরেট শোরুমের প্রভাব ও অস্থিতিশীল বাজার
রাজশাহীর প্রধান আইটি হাব হিসেবে পরিচিত নিউমার্কেট এবং সাহেব বাজার এলাকার ছোট ব্যবসায়ীদের দাবি, বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর শুধু আমদানিতে সীমাবদ্ধ নেই। তারা নিজেরাই সরাসরি খুচরা বাজারে (Retail Market) শোরুম পরিচালনা করছে। ফলে তারা যখন কোনো পণ্যের দাম বাড়ায় বা স্টক আটকে রাখে, তখন স্থানীয় ছোট দোকানদারদের হাত-পা বাঁধা থাকে।
খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, গ্লোবাল ব্র্যান্ড, স্মার্ট টেকনোলজিস বা এক্সেলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় জনপ্রিয় মডেলের পণ্যগুলো নিজেদের শোরুমের জন্য রেখে দেয়, যা সাধারণ ডিলার বা খুচরা বিক্রেতারা পায় না। এতে সাধারণ ক্রেতারা বাধ্য হয়ে চড়া দামে বড় শোরুমগুলো থেকে পণ্য কিনতে হচ্ছে।
কেন সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি?
রাজশাহীর আইটি বাজারে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ বা কম্পিউটার কেনা সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমদানিকারকরা যখন নিজেরাই রিটেইল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে, তখন সেখানে সুস্থ প্রতিযোগিতা (Fair Competition) থাকে না।
সচেতন মহলের দাবি:
১. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সাহেব বাজার ও নিউমার্কেটের আইটি পণ্যের ইনভয়েস এবং খুচরা মূল্য যাচাই করা।
২. বড় আমদানিকারকরা (স্টারটেক, রায়ান্স বা স্মার্ট টেকনোলজিস) যাতে ডিলারদের বঞ্চিত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, তার জন্য সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন।
৩. রাজশাহীর সার্ভিস সেন্টারগুলোর কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
ভবিষ্যৎ সংকটের শঙ্কা
আইটি বাজার স্থিতিশীল না হলে রাজশাহীর হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার ও শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়বে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হলে বেকারত্ব বাড়বে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখনই উচিত এই বৃহৎ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানো।