
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রের সম্পদ কোনো ব্যক্তির দান নয়, কোনো দলের পৈতৃক সম্পত্তিও নয়—এটি জনগণের ঘাম, শ্রম আর ভবিষ্যতের অধিকার। অথচ যখন দেখা যায়, এই সম্পদ লুটে নিতে কারও বুক কাঁপে না, তখন তাদের মুখে উচ্চারিত “দেশপ্রেম” শব্দটি কেবলই ভণ্ডামির প্রতিধ্বনি হয়ে ওঠে।
দেশপ্রেম মানে শুধু পতাকা উড়ানো, স্লোগান দেওয়া কিংবা জাতীয় দিবসে আবেগী বক্তব্য রাখা নয়। প্রকৃত দেশপ্রেমের মাপকাঠি হলো—রাষ্ট্রের প্রতিটি টাকা, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি সুযোগকে নিজের আমানত মনে করা। যে মানুষ রাষ্ট্রের সম্পদ আত্মস্বার্থে ভোগ করে, ঘুষে–দুর্নীতিতে রাষ্ট্রকে নিঃস্ব করে, সে আদতে দেশের শত্রু হয়েই কাজ করে—যত বড়ই তার মুখের ভাষণ হোক না কেন।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই লুটপাট যখন স্বাভাবিক হয়ে যায়। যখন রাষ্ট্রের সম্পদকে “সুযোগ” মনে করা হয়, দায়িত্বকে নয়। তখন সমাজ ধীরে ধীরে নৈতিকতা হারায়, তরুণ প্রজন্ম শেখে—সততা নয়, চালাকিই সাফল্যের চাবিকাঠি। এই শিক্ষা একটি রাষ্ট্রকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়, কোনো বাহ্যিক শত্রুর প্রয়োজন পড়ে না।
যাদের বুক কাঁপে না রাষ্ট্রের টাকা চুরি করতে, তাদের কাছে দেশ মানে কেবল ক্ষমতা, সুবিধা আর নিরাপত্তার ছাতা। জনগণ তাদের কাছে পরিসংখ্যান মাত্র, আর ভবিষ্যৎ একটি ব্যবহারযোগ্য সম্পদ। এমন মানুষের মুখে দেশপ্রেম মানায় না, কারণ দেশপ্রেমের প্রথম শর্তই হলো আত্মসংযম ও দায়বদ্ধতা।
রাষ্ট্র বাঁচে আইন দিয়ে নয়, বাঁচে নৈতিকতায়। আর সেই নৈতিকতা ধ্বংস হয় যখন লুটেরা দেশপ্রেমিকের মুখোশ পরে সমাজে সম্মান পায়। তাই আজ সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—দেশপ্রেমের সংজ্ঞা নতুন করে ঠিক করা। যেখানে শব্দ নয়, কাজই হবে পরিচয়; যেখানে রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করাই হবে সবচেয়ে বড় দেশপ্রেম।
আল আমিন মিলু
রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক লেখক এবং
আহ্বায়ক গনঅধিকার পরিষদ
সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর