
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক অদ্ভুত বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। এখানে দেশপ্রেম একটি রোমান্টিক শব্দ—যার বাস্তব কোনো মূল্য নেই, বরং আছে উপহাস। আর ষড়যন্ত্র হলো সবচেয়ে কার্যকর রাজনৈতিক কৌশল—যার পুরস্কার ক্ষমতা, নিরাপত্তা ও বিজয়।
যে মানুষটি দেশের কথা বলে, সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা তোলে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়—তাকে বলা হয় “অপরিণত”, “রাজনীতি বোঝে না”, কিংবা “আদর্শবাদী।” অথচ যে মানুষটি নীরবে চক্রান্ত করে, সময় বুঝে অবস্থান বদলায়, প্রয়োজনে শত্রুকে বন্ধু বানায়—সেই হয়ে ওঠে বিচক্ষণ রাজনীতিক।
এই দেশে রাজনীতি আর নৈতিকতার সমীকরণ একে অপরের বিপরীতমুখী। নৈতিকতা যত বাড়ে, রাজনৈতিক ঝুঁকি তত বাড়ে। আর কূটকৌশল যত নিখুঁত হয়, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তত নিরাপদ হয়। ফলে রাজনীতি আজ আর আদর্শের লড়াই নয়, এটি এক ধরনের টিকে থাকার খেলায় পরিণত হয়েছে।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক সত্য হলো—সত্য বলার শাস্তি। দলীয় রাজনীতিতে সত্য উচ্চারণ মানেই অবাধ্যতা। প্রশ্ন তোলা মানেই ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়া। তাই অনেকেই নীরব থাকতে শিখে যায়, বিবেককে পেছনে ফেলে দেয়। রাজনীতি হয়ে ওঠে প্রশিক্ষিত মিথ্যাবাদীদের একচেটিয়া মাঠ।
এখানে জনগণও দায়মুক্ত নয়। দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা আর প্রতারণা মানুষকে ক্লান্ত করে তুলেছে। ফলে তারা আর আদর্শ খোঁজে না, খোঁজে কারা ক্ষমতায় এলে কম ক্ষতি করবে। এই মানসিক পরাজয়ই ষড়যন্ত্রকারীদের সবচেয়ে বড় বিজয়।
তবু প্রশ্ন থেকে যায়—এই বাস্তবতা কি চিরস্থায়ী? ইতিহাস বলে, না। প্রতিটি জাতির জীবনে এমন সময় আসে, যখন আদর্শহীন রাজনীতি নিজেই নিজের ভারে ভেঙে পড়ে। তখন মানুষ আবার দেশপ্রেমিক কণ্ঠ খোঁজে, সাহসী নেতৃত্ব খোঁজে।
বাংলাদেশও সেই ব্যতিক্রম নয়। হয়তো আজ দেশপ্রেমিকরা হাসির পাত্র, উপেক্ষিত, কোণঠাসা। কিন্তু রাষ্ট্র, সমাজ ও ইতিহাস কখনো ষড়যন্ত্রকারীদের দীর্ঘদিন ক্ষমা করে না। সময় লাগে, মূল্য দিতে হয়—তবু শেষ কথা বলে আদর্শই।
প্রশ্ন হলো—আমরা কোন পাশে দাঁড়াবো? উপহাসের শিকার দেশপ্রেমিকদের পাশে, নাকি বিজয়ীর মুখোশ পরা ষড়যন্ত্রকারীদের পাশে?
আল আমিন মিলু
রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক লেখক এবং আহ্বায়ক গনঅধিকার পরিষদ সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর