
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের রাজনীতিতে “পরিবর্তন” শব্দটি বহুদিন ধরেই উচ্চারিত হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবতায় তার প্রতিফলন খুবই সীমিত। ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও রাজনৈতিক সংস্কৃতি, আচরণ ও কাঠামো প্রায় অপরিবর্তিতই থেকে যাচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষের মুখে আজ হতাশার ভাষা— যেই লাউ সেই কদু।
প্রথমত, রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন আদর্শ নয়, ক্ষমতা। দল বদলায়, মুখ বদলায়, কিন্তু লক্ষ্য একই থাকে—ক্ষমতা দখল ও সংরক্ষণ। আদর্শিক রাজনীতি ক্রমেই স্লোগানে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ক্ষমতায় গেলে গণতন্ত্রের কথা, ক্ষমতার বাইরে গেলে আন্দোলনের কথা—এই চক্রটাই ঘুরে ফিরে চলছে।
দ্বিতীয়ত, দলীয় রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব পরিবর্তনের বড় অন্তরায়। দলগুলোর ভেতরে নেতৃত্ব নির্বাচন, মত প্রকাশ, ভিন্নমতকে জায়গা দেওয়ার সংস্কৃতি দুর্বল। ফলে নতুন নেতৃত্ব, নতুন চিন্তা সামনে আসতে পারে না। একই মানুষ, একই কৌশল, একই রাজনীতি—শুধু সময় বদলায়।
তৃতীয়ত, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাবের বাইরে আসতে পারেনি। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন ব্যবস্থা—সবখানেই আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে ব্যক্তি ও দলের ওপর নির্ভরতা বাড়ে, আর সেখান থেকেই পুরনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঘটে।
চতুর্থত, সাধারণ মানুষের ভূমিকা ক্রমশ দর্শকের মতো হয়ে গেছে। ভোটের সময় নাগরিক, ভোটের পর প্রজা—এই অনুভূতি মানুষকে রাজনীতি থেকে দূরে ঠেলে দেয়। যখন জনগণ সক্রিয় অংশগ্রহণকারী না হয়ে কেবল ভুক্তভোগী হয়, তখন রাজনীতিবিদদের জন্য পরিবর্তনের তাগিদও থাকে না।
সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই—এই ধারণা পুরোপুরি অমূলক নয়। কারণ পরিবর্তনের জন্য যে কাঠামোগত সংস্কার, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও গণতান্ত্রিক চর্চা দরকার, তা এখনো দৃশ্যমান নয়। তাই মানুষ বারবার একই বাস্তবতায় ফিরে আসে এবং হতাশ কণ্ঠে বলে—ক্ষমতা বদলালেও রাজনীতি বদলায় না, যেই লাউ সেই কদু।
তবু ইতিহাস বলে, চাপ জমতে জমতেই একসময় ফাটল ধরে। প্রশ্ন শুধু একটাই—সেই ফাটলটা সংস্কারের পথে যাবে, নাকি আবার নতুন নামে পুরনো রাজনীতিকেই ফিরিয়ে আনবে?
আল আমিন মিলু
রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক এবং
আহ্বায়ক গনঅধিকার পরিষদ
সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর