
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোটের আগে দেশটা হয়ে ওঠে সবার মা।
মাটির গন্ধে তখন রাজনীতিকের কণ্ঠ ভারী হয়,
পতাকার রঙে রাঙানো প্রতিশ্রুতি ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম থেকে শহরে।
তখন দেশ বাঁচাতে ঘুম হারাম,
জনগণের দুঃখে চোখ ভেজে,
আর ভাষণে শোনা যায়— “এই দেশ আমার প্রাণ”।
কিন্তু ভোটের বাক্স বন্ধ হতেই
দেশটা হঠাৎ যেন দূরের কেউ হয়ে যায়।
প্রাণের দেশ তখন বদলে যায় প্রকল্পে,
আদর্শ রূপ নেয় হিসাবের খাতায়,
আর দেশপ্রেম রূপান্তরিত হয় ক্যাশপ্রেমে।
যারা কাল পর্যন্ত বলেছিল
“আমি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি থাকবে না”,
তারাই আজ হিসাব করে—
কোন টেন্ডারে কত ভাগ,
কোন সিদ্ধান্তে কার পকেট ভারী হবে।
জনগণ তখন আর মানুষ নয়,
শুধু পরিসংখ্যান—
ভোটব্যাংক, সংখ্যা, ব্যবহারযোগ্য শক্তি।
ভোটের আগে যে নেতা বলেছিল
“আমি তোমাদেরই একজন”,
ভোটের পরে সে নেতা
আর ফোন ধরে না,
দেখা দেয় না,
চিনতেও চায় না।
এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি—
দেশপ্রেম এখানে মৌসুমি।
ভোটের আগে ফুল ফোটে,
ভোটের পরে ঝরে পড়ে।
তবুও প্রশ্ন থেকে যায়—
দেশ কি শুধু ভোটের সময় দরকার?
নাকি দেশ মানে দায়িত্ব,
ক্ষমতায় থেকেও মানুষের পাশে থাকা?
যেদিন রাজনীতি ক্যাশ নয়,
নীতিকে গুরুত্ব দেবে,
যেদিন ভোটের পরে দেশপ্রেম কমবে না—
সেদিনই সত্যিকারের গণতন্ত্র জন্ম নেবে।
ততদিন পর্যন্ত
আমরা শুধু দেখবো—
ভোটের আগে দেশপ্রেম,
ভোটের পরে ক্যাশপ্রেম।
আল আমিন মিলু
আহ্বায়ক গনঅধিকার পরিষদ
সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর