নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ বাংলাদেশ এক ভারী নীরবতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় মানে শুধু একজন রাজনীতিবিদের প্রস্থান নয়—এটা একটি সময়, একটি সংগ্রাম, একটি ইতিহাসের পর্দা নামা।
তিনি ছিলেন তর্কের, ভালোবাসার, বিরোধিতার—সবকিছুর মধ্যেই এক অনিবার্য নাম। কারও কাছে তিনি আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক, কারও কাছে গণতন্ত্রের লড়াইয়ের এক অবিচল মুখ। সমর্থন আর বিরোধিতার দুই প্রান্তেই তিনি ছিলেন শক্তভাবে উপস্থিত—এটাই বড় নেতৃত্বের বাস্তবতা।
জীবনের দীর্ঘ পথে তিনি দেখেছেন ক্ষমতার শীর্ষ, আবার দেখেছেন নিঃসঙ্গতার কঠিন সময়। ব্যক্তিগত শোক, রাজনৈতিক সংঘাত, অসুস্থতা—সবকিছুকে ছাপিয়ে তিনি ছিলেন এক দৃঢ় মানসিকতার মানুষ। রাষ্ট্রক্ষমতার অলিন্দ থেকে আদালতের বারান্দা—সব জায়গায় তার নাম উচ্চারিত হয়েছে ইতিহাসের অংশ হয়ে।
আজ যখন শেষ বিদায়ে তাকে স্মরণ করা হচ্ছে, তখন ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও এক জায়গায় সবাই একমত—তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির এক বড় অধ্যায়। তার জীবন আমাদের শিখিয়েছে, রাজনীতি কেবল ক্ষমতা নয়; রাজনীতি ধৈর্য, ত্যাগ আর সময়ের কঠিন পরীক্ষাও।
আজকের এই বিদায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার প্রভাব থেকে যায়। বিতর্ক থেমে যায় না, তবে মৃত্যু সব শোরগোলকে স্তব্ধ করে দেয় কিছু সময়ের জন্য। সেই স্তব্ধতার ভেতর দাঁড়িয়ে আমরা শুধু বলি—ইতিহাসে তার নাম লেখা থাকবে নিজের মতো করেই।
শেষ বিদায়ে, শোকের এই মুহূর্তে—মানবিক সম্মানটুকু অক্ষুণ্ণ থাকুক। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আজ তিনি কেবলই একজন প্রয়াত মানুষ, যিনি রেখে গেলেন বহু প্রশ্ন, বহু স্মৃতি, আর একটি পূর্ণ অধ্যায়।
বিদায়।
আল আমিন মিলু
লেখক গবেষক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং
আহ্বায়ক গনঅধিকার পরিষদ
সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর