নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় যখন আস্থা, স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্যের ঘাটতি প্রকট হয়ে উঠেছে—তখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস এবং অতীত সংকট মোকাবিলার দক্ষতা তাকে আজকের উত্তাল সময়ে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
গত এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজনীতিতে যে অচলাবস্থা, বিভাজন ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে প্রয়োজন এমন একজন ব্যক্তিত্ব যিনি একইসঙ্গে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবেন এবং বিরোধী রাজনীতিকে একটি গ্রহণযোগ্য রূপ দিতে পারবেন। খালেদা জিয়া সেই বিরল রাজনৈতিক নেতৃত্বদের একজন, য whose উপস্থিতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ভারসাম্য তৈরি করে। কারণ তিনি কেবল বিএনপির নেতা নন—তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি অধ্যায়।
এ দেশ বহুবার দেখেছে, রাজনৈতিক পথচলা কঠিন হলে, জনগণের অধিকার সংকুচিত হলে বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হলে গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলো তার দিকে তাকিয়ে থাকে। তার নেতৃত্বে আন্দোলন যেমন হয়েছে, তেমনি সংলাপ—সংকট উভয় পরিস্থিতিতেই তিনি দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
আজকের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন নতুন নেতৃত্ব, নতুন রাজনীতি এবং নতুন প্রত্যাশার কথা বলা হচ্ছে—তখন অভিজ্ঞতার গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না। নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদরা দিকনির্দেশনা চান, দল চায় ঐক্য, আর দেশের মানুষ চায় একটি গ্রহণযোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ। খালেদা জিয়া সেই অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক ওজন দিয়ে এই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেন।
সবচেয়ে বড় কথা—তার ফিরে আসা ও সক্রিয় ভূমিকায় বিরোধী রাজনীতি নতুন প্রাণ পেতে পারে, গণতন্ত্রের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ফিরতে পারে, এবং রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা অনেকটাই পূরণ হতে পারে। তাই বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়োজনীয়তা কেবল বিএনপির রাজনীতিতে নয়, বরং সামগ্রিক জাতীয় রাজনীতির পুনর্গঠনেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আল আমিন মিলু
আহ্বায়ক
গনঅধিকার পরিষদ
সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর