
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় সংকট আজ আর মতাদর্শ নয়, বরং ক্ষমতার লোভ। ক্ষমতা যখন মানুষের সেবার উপায় না হয়ে আত্মস্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখনই সুশাসনের ভিত্তি নড়ে যায়। আমাদের রাজনীতিতে এখন নীতি নয়, সংখ্যা নির্ধারণ করে কে প্রভাবশালী, কে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক।
এই ক্ষমতার লোভ থেকেই জন্ম নেয় দুর্নীতি, দলীয়করণ, আর প্রশাসনিক পক্ষপাত। রাজনীতিকরা ক্ষমতায় থাকতে চান যেকোনো মূল্যে, আর সেই “যেকোনো মূল্য”র নামই হচ্ছে দুর্নীতি। কেউ পদ ধরে রাখতে ঘুষ নেয়, কেউ প্রভাব বিস্তারে বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে, আবার কেউ উন্নয়নের নামে লুটপাট করে জনগণের কষ্টার্জিত টাকায় রাজপ্রাসাদ তোলে।
সুশাসন মানে হচ্ছে — ন্যায়, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ। কিন্তু যখন ক্ষমতা ব্যক্তিগত সম্পদে রূপ নেয়, তখন এই চারটি স্তম্ভই ধসে পড়ে। প্রশাসন রাজনীতির হাতের পুতুলে পরিণত হয়, বিচার ব্যবস্থা হয়ে যায় পক্ষপাতদুষ্ট, আর সাধারণ মানুষ হারায় রাষ্ট্রে আস্থা।
আমরা বারবার দেখি — সরকার বদলায়, মুখ বদলায়, কিন্তু চরিত্র বদলায় না। কারণ যারা ক্ষমতায় যায়, তারা মনে করে দেশ নয়, দলই সব। এই মানসিকতা থেকে মুক্ত না হলে কোনো সরকারই টেকসই সুশাসন দিতে পারবে না।
ক্ষমতার লোভ যেন একটা ভাইরাস — এটি রাজনীতিকদের নষ্ট করে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে, আর সমাজে অন্যায়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। এই ভাইরাসের প্রতিষেধক একটাই: নৈতিকতা ও জনগণের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা। জনগণ যদি সত্যিই তাদের ভোটের মূল্য বোঝে, যদি দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে রাজনীতিকরাও বাধ্য হবে সৎ হতে।
এখন সময় এসেছে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার — যেখানে নেতৃত্ব মানে দায়িত্ব, ক্ষমতা মানে সেবা, আর রাজনীতি মানে জনগণের প্রতি অঙ্গীকার। ক্ষমতার নয়, নীতির রাজনীতি ফিরিয়ে আনলেই সুশাসনের সূর্য আবার উদিত হবে।
-আল আমিন মিলু
আহ্বায়ক
গনঅধিকার পরিষদ
সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা