
কামরুল হাসান:
জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামের মৃত আব্দুছ ছাত্তারের ৩০ বছর বয়সের একমাত্র নোমান (৩০)। গত ২৩ আগস্ট সকালে তারই এক জেঠাতো ভাইয়ের নির্মানাধীন ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্ম হত্যা করেছে। তাও আবার জানালার গ্রীলের সাথে। এর কারন হিসেবে ¯’ানীয়সূত্রে জানা গেছে-ঘটনার কয়েক দিন আগে সে তার নামীয় জমি বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড লাগাতে যায়। এ সময় জেঠাতো ভাই মামুন, মাসুদ, মেহেদী ও মুরাদ ওই জমি তাদের বলে দাবি করে। সেই সাথে নোমানকে বাঁধা প্রদানসহ মারধর করে। এতে তার আত্ম সম্মানে লাগে। তাই মনোকষ্টের এক পর্যায়ে সে ঘটনার দিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ¯’ানীয়রা জানায়, এর মূল নায়ক হলো নোমানের বড় জেঠা বেলায়েত হোসেন রেফে বিলাত আলী মাস্টারের ছেলে সাইফুল মাস্টার। তারা আরও জানায়-সাইফুল মাস্টার তার চাচাতো ভাইদের জমা-জমি তার নিজের নামে খারিজ করে অন্যত্র বেচে দিয়েছে। সম্প্রতি এ কথা জানা জানি হলে তাদের মধ্যে জমি দখল ও রক্ষার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এরই এক পর্যায়ে এ কান্ড ঘটে। এ বিষয়ে সাইফুল মাস্টার জানান, নোমান ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক টাকা ধরা খেয়েছে। তারপর বিভিন্ন পাওনাদারদের চাপে সে দিশকুল না পেয়ে এ কান্ড ঘটিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার আফিজুর রহমান জানান, নোমান ঋণগ্রস্ত হয়ে ছিল। এক পর্যায়ে দেউলিয়া হয়ে আত্মহত্যা করে বলে শুনেছেন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আত্মহত্যার প্রকৃত কারন জানতে খোঁজ-খবর নিয়েছিলেন কি না? এর সদুত্তর না দিয়ে অন্য দিকে প্রভাবিত করতে পুরান মাটিখোলায় ছেলে-মেয়ে ধরা পড়েছে এ তথ্য দিয়ে সেখানে যেতে বলেন। শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র আহবায়ক এ কে আজাদ জানান, নোমান মোবাইলে জুয়া খেলে অনেক টাকা খুয়েছে। তাই সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। জামালপুর সদর থানার ওসি আবু ফয়সাল আতিক জানান, সে মানসিক সমস্যায় ভুগছিল। তাই আত্মহত্যা করেছে। এ ব্যাপারে তার মা-বাবা, ভাই-বোন ও এলাকাবাসীর কোন অভিযোগ ছিলনা।
কামরুল হাসান
০১৯১৪-৭৩৫৮৪২